জুড়ীতে সরকারী রাস্তা দখল করে পাঁকা দেওয়াল তৈরির অভিযোগ

148

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার জেলা’র জুড়ী উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউ,পি’র বড়ধামাই গ্রামে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এলাকার মোঃ কাউসার আহমেদ জসিম জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুড়ী উপজেলার ০২ নং পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধামাই জামে মসজিদ সংলগ্ন জনৈক মিম্বর আলীর বাড়ীর দক্ষিণ পূর্ব পাশে কাঁচা রাস্তা রয়েছে।স্থানীয় জমির আলী(৬৫), রফিকুল ইসলাম রেনু(৪০), আব্দুল ওয়াহিদ পাখি(৬০), মাসুক উদ্দীন বাদশা(৫০), আসুক উদ্দীন(৪৮), বশির উদ্দীন(৩৫) গং গেল ২৬-০৭-২০২০ইং তারিখে দীর্ঘ দিনের চলাচলের রাস্তাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়।পরবর্তীতে জুড়ী থানা’র সাবেক অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার ঘটনাস্থল গিয়ে রাস্তার উপর বেড়া সরিয়ে দিয়ে পূর্বের মতো চলাচলের ব্যবস্থা করেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে অভিযুক্ত প্রবাসী আমির উদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তার মধ্যেই পাকা প্রাচীর নির্মাণ করছেন।ফলে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ শত শত মানুষ যাতায়াত করে থাকে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার মধ্যখানে পাকা দেওয়াল তৈরির কাজ চলছে।এতে জনসাধারণের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।এছাড়াও আমির আলী তার বাড়ীর সামনে ও পিচনে লাল টিল্লা রকম মাটি কেটে রাস্তার অপর অংশে ভরাট করছেন। টিল্লা কেটে পরিবেশের ক্ষতিসাধন হচ্ছে মর্মে গেল ০৮-১০-২০ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন সাক্ষরিত প্রত্যায়ন পত্র সূত্রে জানাযায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এডিপি থেকে দেড় লক্ষ টাকায় উক্ত রাস্তার উপর কালভার্ট নির্মান করা হয়।এছাড়াও পিআইও অফিস থেকে টি,আর ৪০-হাজার টাকা এবং ইজিপিপি-২ থেকে উক্ত রাস্তা পূনঃ নির্মানে ২-লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করানো হয়।
এলাকার মুরব্বী বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ আলী জানান, ১৯৭১! সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে আমি সহ আমার কয়েকজন সহযোদ্ধা এই রাস্তা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করেছি।স্বাধীনতার পরও এপর্যন্ত রাস্তাটি ব্যবহার করছে এলাকাবাসী, হঠাৎ করে জোরপূর্বক ভূমি খেকোরা রাস্তাটি দখল করে জনচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।রাস্তা বন্ধকারী ভূমি খেকোদের বিচার চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

মোঃ ছাদ উদ্দীন(৬৫) জানান, আমর বাবার জন্মের আগ থেকে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করছে।রাস্তাটি আরোও বড় করা হয়েছে।হঠাৎ করে কেন আমাদের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করা হলো? তিনি আরোও জানান, রাস্তা দখলকারী প্রবাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা এলাকাবাসী কিছু করতে পারছি।আমরা প্রতিবাদ করলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে আমাদের উপর হামলা করে।

হাজী মোঃ ঈব্রাহীম আলী(৬৫) ও মোঃ নিম্বর আলী(৬০) জানান, সরকারি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রী সহ কয়েকশ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন।হঠাৎ করে রাস্তাটি বন্ধ করে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করায় এই এলাকার মানুষের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।আমরা এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তাটি পূর্বের মতো দখল মুক্ত করে চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

ইউ,পি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, এই রাস্তাটি সরকারি নহে, ব্যক্তি চলাচলের মালিকাধিন রাস্তা।
ব্যক্তি চলাচলের রাস্তায় সরকারি বরাদ্দ দিয়ে কি উন্নয়ন কাজ করা হলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিউওর দিতে পারেন নি।

রাস্তা দখল করে পাঁকা দেওয়াল তৈরি করার বিষয়ে
অভিযোক্ত আমির আলী’র সাথে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে জিঙ্গাসা করা হলে তিনি জানান, এটা সরকারি রাস্তা নহে! তার ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির উপর রাস্তা ছিলো তাই তিনি সেটা দখল করে পাঁকা দেওয়াল তৈরি করছেন।টিল্লা কাটা(লাল মাটি)’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চেয়ারম্যান ও মেম্বার-কে অবগত করে কাটাচ্ছি।

জুড়ী উপজেলা’র নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল-ইমরান রুহুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যদি রাস্তাটি সরকারের রেকর্ডভুক্ত হয়ে তাকে তাহলে তা দখল করার কোনো কোনো সুযোগ নেই।এ ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।