“মহানবীকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি;নিহত ৪” বোরহানউদ্দিন ট্রাজেডির এক বছর আজ

13

মো. সাইফুল ইসলাম ভোলা প্রতিনিধি):::
ভোলার বোরহানউদ্দিনে গত বছর এইদিনে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক রক্তক্ষয়ী ঘটনা।গত বছর ২০ অক্টোবর রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কুটূক্তি করার প্রতিবাদে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তৌহিদী জনতার সমাবেশে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন।আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রায় শতাধিক।এক পুলিশ সদস্য সেখানে আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরন করা হয়েছিল।

সংঘর্ষে নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের তখনকার ভাষ্যমতে_ভোলা পুলিশ সুপার সরকার কায়সার আহমেদ জানান;প্রথমে তাদের উপর ইট পাটকেল ছুড়ে জনতা। এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পুলিশ আত্ম রক্ষার্থে মাদ্রাসার কক্ষে আশ্রয় নেয় ও ফাকা গুলি ছুড়তে থাকে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি করে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে পথচারিসহ বিক্ষোভকারি আহত হন।আইডি সত্যি হ্যাক হয়েছে বলে দাবী পুলিশের।

অভিযোগ উঠেছিল বোরহানউদ্দিনে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সে শুক্রবার বিকেলে তার নামের ফেসবুক আইডি থেকে তার ফ্রেন্ড লিস্টের বেশ কয়েক জনের কাছে আল্লাহ এবং রাসুল (সঃ) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালের মেসেজ আসে।সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে।তখন বিপ্লব চন্দ্র পুলিশের হেফাজতে ছিল।

সে সময় ঘটনার দিন পরিবেশ শান্তি রাখতে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হয়।দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরানোর জন্য এক প্লাটুন বিজিবি হেলিকপ্টারে পাটানো হয়।সাথে RAB ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছিল।

তবে এ ঘটনায় আইডি হ্যাক হয়েছে বলে দাবী করেছিল বিপ্লব চন্দ্র শুভ।ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।দখন ৩জনকে হ্যাকিং অভিযুক্ত দায়ে গ্রেফতার করে পুলিশ শাকিব ও লিমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নং ১৭) দেয়া হয়েছিল। এ মামলায় তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।তারা আইডি হ্যাক করে টাকা দাবী করে বলে জানা গিয়েছিল।

পরে গত বছর ২৬ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিনে রবিবারের সংঘর্ষে নিহত চারজনের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ২০ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে।সেদিন শনিবার দুপুরে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল নিহতদের পিতা-মাতার হাতে নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন।
তখন আলী আজম মুকুল(সংসদ সদস্য ভোলা-২) বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভোলার অভিভাবক সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপির পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

তবে এ নির্মম ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি এবং নির্দিষ্ট কোন সুরাহা হয়নি।ভোলাবাসীর দাবী এঘটনায় জড়িত ইসলাম বিদ্বেষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।